লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

কৃষি ভারদ্বাজ সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান মগধরাজ্যে দক্ষিণাগিরিতে একনালা নামক ব্রাহ্মণগ্রামে অবস্থান করছেন। তখন কৃষি ভারদ্বাজ ব্রাহ্মণের বীজ বপনকালে পাঁচশত লাঙ্গল কৃষিকার্যে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ভগবান পূর্বাহ্ণ সময়ে পরিধেয় বস্ত্র পরিধান করে পাত্র-চীবর নিয়ে সে কৃষি ভারদ্বাজ ব্রাহ্মণের কর্মস্থলেউপস্থিত হলেন।

সে-সময়ে কৃষি ভারদ্বাজ ব্রাহ্মণের ভোজন পরিবেশন চলছিল। অনন্তর ভগবান তথায় উপস্থিত হয়ে একপাশে দাঁড়ালেন। কৃষি ভারদ্বাজ ব্রাহ্মণ ভগবানকে ভিক্ষান্নের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন দেখে এরূপ বললেন, ‘হে শ্রমণ, আমি কর্ষণ করি, (বীজ) বপন করি; কর্ষণ করে ও বপন করে ভোজন করি। তাই শ্রমণ, আপনিও কর্ষণ কর, বপন কর; কর্ষণ করে এবং বপন করে ভোজন করেন।’ তখন ভগবান বললেন, ‘হে ব্রাহ্মণ, আমিও কর্ষণ করি, বপন করি; কর্ষণ করে ও বপন করে ভোজন করি।’ ব্রাহ্মণ বললেন, আমরা তো প্রভু গৌতমের লাঙ্গল, জোয়াল, ফাল, গো-তাড়ানোর লাঠি এবং বলদ কিছুই দেখছি না। অথচ প্রভু গৌতম আপনি বলছেন, ‘আমিও কর্ষণ করি, বপন করি; কর্ষণ করে এবং বপন করে ভোজন করি।’ অতঃপর কৃষি ভারদ্বাজ ব্রাহ্মণ ভগবানকে গাথায় ভাষণ করলেন :

‘আপনি নিজেকে কৃষক বলে পরিচয় দিচ্ছেন, কিন্তু আমি তো আপনার কৃষিকর্ম বলে কিছুই দেখছি না। বলুন তো আপনি কী রকম কৃষক? আর সে কৃষিকাজ কিরূপে চলে জানতে পারি?’

বুদ্ধ ব্রাহ্মণকে বললেন, ‘আমার কৃষিকাজে শ্রদ্ধা হচ্ছে বীজ, তপস্যা হচ্ছে বৃষ্টি, প্রজ্ঞা হচ্ছে লাঙ্গল ও জোয়াল, হ্রী (পাপের প্রতি লজ্জা) হচ্ছে লাঙ্গলের ঈষ, মন হচ্ছে গরু বাধার দড়ি, স্মৃতি হচ্ছে আমার ফাল ও গো-তাড়ানোর লাঠি।’

‘কায়সংযত, বাক্যসংযত, আহারে সংযত (মাত্রাজ্ঞতা) হয়ে সত্যের দ্বারা (যথাভূত জ্ঞানে) (পাপ চেতনার আগাছা) ছেদন করি এবং সুন্দর নির্বাণে রতিই আমার মুক্তি।’

‘বীর্য আমার ধুরবাহী (বোঝাবহনকারী) যোগক্ষেমাধিবাহন, যেখানে গিয়ে শোক হয় না সেখানে অবিরাম চলছে।’

‘এরূপ কর্ষিত কৃষিকর্মেই অমৃতফল লাভ হয়। এভাবে কৃষিকর্ম করে সর্ব দুঃখ হতে মুক্ত হওয়া যায়।’

(তখন ব্রাহ্মণ বললেন) ‘প্রভু গৌতম, আপনি ভোজন করুন। ভগবানই প্রকৃত কৃষক। যেহেতু আপনি অমৃতফল লাভের জন্য কৃষি কর্ষণ করেন।’

(বুদ্ধ ব্রাহ্মণকে বললেন) ‘হে ব্রাহ্মণ, গাথা পাঠ করে লব্ধদ্রব্য আমার পরিভোগ্য নয়। (অর্থ ও ধর্ম) দ্রষ্টাদের এটা ধর্ম নয়। গাথা পাঠ করে লব্ধদ্রব্য বুদ্ধগণ পরিত্যাগ করেন। হে ব্রাহ্মণ, ধর্মে স্মৃতিই তাঁদের জীবিকা বৃত্তি।’

‘ক্ষীণাসব, দুশ্চরিত্র-উপশান্ত ও সম্পূর্ণরূপে সিদ্ধ মহর্ষিকে অন্য কোনো অন্ন-পানীয় দিয়ে পূজা কর; তা পুণ্যাকাঙ্ক্ষীর ক্ষেত্র হয়।’

এরূপ উক্ত হলে কৃষি ভারদ্বাজ ব্রাহ্মণ ভগবানকে এরূপ বললেন, ‘প্রভু গৌতম, অতি সুন্দর… আমি ভগবান গৌতম এবং তাঁর ধর্ম ও ভিক্ষুসংঘের শরণাপন্ন হলাম।’

ব্যাখ্যা [১]