(বুদ্ধ ও ধর্মের গুণ। সেল ব্রাহ্মণের প্রব্রজ্যা)
৩৯৬. আমি এইরূপ শুনিয়াছি। এক সময় ভগবান সাড়ে বারো শত ভিক্ষু সমন্বিত মহাভিক্ষুসংঘসহ অঙ্গুত্তরাপ জনপদে ধর্ম প্রচারার্থ বিচরণ করিতে করিতে যেখানে আপণ নামক নিগম ছিল, সে-স্থানে পৌঁছিলেন।
কেণিয় জটিল (তপস্বী) শুনিলেন, “শাক্যকুল প্রব্রজিত শাক্যপুত্র গৌতম সাড়েবারশত ভিক্ষুর মহাভিক্ষুসংঘসহ অঙ্গুত্তরাপে চারিকায় বিচরণ করিতে করিতে আপণে আসিয়াছেন। সেই ভগবান গৌতমের এই প্রকার কল্যাণ-কীর্তিশব্দ বিঘোষিত হইয়াছে : সেই ভগবান অর্হৎ…। তথাবধি অর্হতের দর্শন মঙ্গলজনক।”
তখন কেণিয় জটিল যেখানে ভগবান আছেন, সেখানে উপনীত হইলেন। উপস্থিত হইয়া ভগবানের সাথে সম্মোদনের (কুশলাদি জিজ্ঞাসার) পর একপ্রান্তে বসিলেন। একপ্রান্তে উপবিষ্ট কেণিয় জটিলকে ভগবান ধর্মোপদেশ দ্বারা সংদর্শন, সমাদাপন, সমুত্তেজন, সম্প্রহর্ষণ করিলেন। ভগবানের ধর্মোপদেশ দ্বারা সন্দর্শিত… হইয়া কেণিয় জটিল ভগবানকে বলিলেন, “মহামান্য গৌতম, ভিক্ষুসংঘসহ আগামীকল্য আমার বাড়িতে ভোজন স্বীকার করুন।”
এইরূপ উক্ত হইলে ভগবান কেণিয় জটিলকে বলিলেন, “কেণিয়, ভিক্ষুসংঘ বৃহৎ, সংঘে সাড়ে বারো শত ভিক্ষু আছে। তুমিও ব্রাহ্মণদের প্রতি প্রসন্ন।”
দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার কেণিয় জটিল ভগবানকে বলিলেন,…।
“ভগবান মৌনভাবে সম্মত হইলেন। তখন ভগবানের সম্মতি জ্ঞাত হইয়া কেণিয় জটিল আসন হইতে উঠিয়া যেস্থানে তাঁহার আশ্রম ছিল, সে-স্থানে উপনীত হইলেন এবং মিত্র-অমাত্য, জ্ঞাতি-সলোহিতগণকে আহ্বান করিলেন, “ওহে, মিত্র-অমাত্য, জ্ঞাতি-সলোহিতগণ, আমার বাক্য শুনুন, আমি ভিক্ষুসংঘসহ শ্রমণ গৌতমকে আগামীকল্য ভোজন নিমন্ত্রণ করিয়াছি। অতএব আপনারা আমার সাহায্য করিতে পারেন।”
“হ্যাঁ, মহাশয়, (বলিয়া) কেণিয় জটিলকে প্রতিশ্রুতি দিয়া তাঁহার মিত্র-অমাত্য, জ্ঞাতি-সলোহিতদের কেহ কেহ উদ্ধ্মাদ (উনান) খনন করিতে লাগিল, কেহ কেহ জ্বালানিকাষ্ঠ চিড়িতে আরম্ভ করিল, কেহ কেহ ভাজন ধৌত করিতে লাগিল, কেহ কেহ উদকমণি (জল-পাত্র) প্রতিষ্ঠা করিতে লাগিল, কেহ কেহ আসন বিছাইতে লাগিল। কেণিয় জটিল স্বয়ং মণ্ডলমাল (বস্ত্রমণ্ডপ) সজ্জিত করিলেন।
৩৯৭. সেই সময় নিঘণ্ডু, কল্প (কেটুভ), অক্ষর-প্রভেদ সহিত ত্রিবেদ তথা পঞ্চম ইতিহাসে পারগূ, পদক (পদকর্তা), বৈয়াকরণ, লোকায়ত এবং মহাপুরুষ-লক্ষণ (সামুদ্রিক) শাস্ত্রে নিপুণ (অনবয়), শৈল নামক ব্রাহ্মণ আপণে বাস করিতেন আর তিনশত বিদ্যার্থীকে মন্ত্র (বেদ) শিক্ষা দিতেন। শৈলব্রাহ্মণ কেণিয় জটিলের প্রতি অতিশয় প্রসন্ন (শ্রদ্ধাবান) ছিলেন। তখন শৈলব্রাহ্মণ তিনশত শিক্ষার্থী পরিবৃত হইয়া জঙ্ঘা-বিহার বা পদব্রজে ভ্রমণ করিতে করিতে কেণিয় জটিলের আশ্রমে উপনীত হইলেন। শৈলব্রাহ্মণ দেখিলেন যে কেণিয় জটিলের জটিল শিষ্যদের (জটাধারী বানপ্রস্থ শিষ্য) মধ্যে কেহ উদ্ধ্মান খনন করিতেছে,… এবং কেণিয় জটিল নিজেই মণ্ডলমাল প্রস্তুত করিতেছেন।
ইহা দেখিয়া তিনি কেণিয় জটিলকে বলিলেন, “কেমন, মাননীয় কেণিয়ের এখানে কি আবাহ কিংবা বিবাহ হইবে, অথবা মহাযজ্ঞ উপস্থিত হইয়াছে, কিংবা বলকায় (সেনা)-সহ মগধরাজ শ্রেণিক বিম্বিসার আগামীকল্য ভোজনের নিমিত্ত নিমন্ত্রিত হইয়াছেন?”
“না, হে শৈল, আমার এখানে আবাহ হইবে না, বিবাহও হইবে না, আর বলকায়সহ মগধরাজ শ্রেণিক বিম্বিসারও আগামীকল্য ভোজনের নিমিত্ত নিমন্ত্রিত নহেন, অপিচ আমার এখানে মহাযজ্ঞ উপস্থিত আছে। শাক্যকুল প্রব্রজিত শাক্যপুত্র শ্রমণ গৌতম সাড়ে বারোশত ভিক্ষুসংঘ সমন্বিত মহাভিক্ষুসংঘসহ অঙ্গুত্তরাপে ধর্ম প্রচারার্থ বিচরণ করিতে করিতে আপণে আসিয়াছেন। সেই ভগবান গৌতমের এইরূপ মঙ্গল-কীর্তিশব্দ বিস্তৃত হইয়াছে : সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদূ, অনুত্তর পুরুষদম্য সারথী, দেবমানবের শাস্তা, বুদ্ধ ও ভগবান হন। তিনি ভিক্ষুসংঘের সহিত আগামীকল্য ভোজনের নিমিত্ত আমার এখানে নিমন্ত্রিত হইয়াছেন।”
“হে কেণিয়, বুদ্ধ বলিতেছেন?”
“হে শৈল, হ্যাঁ, বুদ্ধ কহিতেছি।”
“… বুদ্ধ বলিতেছেন?”
“… বুদ্ধ কহিতেছি।”
“… বুদ্ধ বলিতেছেন?”
“… বুদ্ধ কহিতেছি।”
৩৯৮. তখন শৈলব্রাহ্মণের এই চিন্তা হইল : ‘বুদ্ধ’ এই ঘোষও জগতে অত্যন্ত দুর্লভ। আমাদের মন্ত্রে বত্রিশ মহাপুরুষ-লক্ষণ বর্ণিত আছে, যাহাতে যুক্ত মহাপুরুষের দ্বিবিধ গতির অন্যতর গতি হয়। যদি তিনি গার্হস্থ্য জীবন যাপন করেন তবে চতুর্দিক বিজয়ী জনপদে স্থায়ি আধিপত্য প্রাপ্ত এবং ধার্মিক ধর্মরাজ চক্রবর্তী রাজা হন…। তিনি সসাগরা এই পৃথিবী বিনাদণ্ডে, বিনাঅস্ত্রে ধর্মত বিজয় করিয়া শাসন করেন। আর যদি আগার ছাড়িয়া অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত হন তবে জগতে আবরণ বিহীন অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ হন।
“হে কেণিয়, সেই মহামান্য গৌতম অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ সম্প্রতি কোথায় বাস করেন?”
এইরূপ উক্ত হইলে কেণিয় জটিল দক্ষিণবাহু জড়াইয়া ধরিয়া শৈল-ব্রাহ্মণকে বলিলেন, “হে শৈল, যেখানে ওই নীল বৃক্ষরাজি বিরাজমান।”
তখন শৈলব্রাহ্মণ তিনশত বিদ্যার্থীসহ যেখানে ভগবান আছেন, সেখানে গেলেন। শৈলব্রাহ্মণ সেই তরুণদিগকে বলিলেন, তোমরা নিঃশব্দে পাদ পরিমাণে পদক্ষেপ করিয়া আস। একাচারী সিংহের ন্যায় সেই ভগবানদের সঙ্গলাভ অতীব দুর্লভ। আমি যখন শ্রমণ গৌতমের সাথে আলোচনা করিব, তখন তোমরা আমার কথার মাঝখানে কথা উত্থাপন করিও না, আমার আলোচনা সমাপ্তি পর্যন্ত তোমরা অপেক্ষা করিবে।”
তখন শৈলব্রাহ্মণ যেখানে ভগবান আছেন, সেখানে উপনীত হইলেন এবং ভগবানের সাথে সম্মোদন করিয়া… একপ্রান্তে বসিলেন। একপ্রান্তে বসিয়া শৈলব্রাহ্মণ ভগবানের দেহে বত্রিশ মহাপুরুষ-লক্ষণ অনুসন্ধান করিলেন। শৈলব্রাহ্মাণ বত্রিশ মহাপুরুষ-লক্ষণের মধ্যে দুইটি ব্যতীত অধিকাংশ লক্ষণ ভগবানের দেহে দেখিতে পাইলেন। কোষাচ্ছাদিত গুহ্যেন্দ্রিয় ও প্রশস্তজিহ্বা এই দুই মহাপুরুষ-লক্ষণ সম্বন্ধে সন্দেহ ও বিচিকিৎসা রহিল, স্থির প্রত্যয় ও প্রসাদ জন্মিল না। তখন ভগবান এমন ঋদ্ধি (যোগ-বিভূতি) প্রদর্শন করিলেন, যাহাতে শৈলব্রাহ্মণ তাঁহার কোষাচ্ছাদিত বস্তী-গুহ্য দেখিতে পান; ভগবান জিহ্বা বাহির করিয়া তদ্বারা উভয় কর্ণ স্পর্শ করিলেন…, ললাট মণ্ডলের সর্বত্র জিহ্বা দ্বারা আচ্ছাদন করিলেন। তখন শৈলব্রাহ্মণের এই বিচার হইল : “শ্রমণ গৌতম অপূর্ণ নহেন, পরিপূর্ণ বত্রিশ মহাপুরুষ-লক্ষণ সমন্বিত। কিন্তু জানিতে পারিলাম না, তিনি বুদ্ধ হন কি না? বয়োবৃদ্ধ, মহল্লক ব্রাহ্মণ আচার্য-প্রাচার্যদের মুখে শুনিয়াছি : ‘যাঁহারা অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ হন তাঁহারা স্বীয় গুণ বর্ণিত হইলে আত্মপ্রকাশ করিয়া থাকেন। সুতরাং আমি শ্রমণ গৌতমের সম্মুখে উপযুক্ত গাথা দ্বারা স্তুতি করি।’”
৩৯৯. অতঃপর শৈলব্রাহ্মণ ভগবানের সম্মুখে উপযুক্ত গাথা দ্বারা স্তুতি আরম্ভ করিলেন :
“সুজাত, সুরুচি তুমি, পূর্ণদেহী, সুচারু-দর্শন,
স্বর্ণ-কান্তি, শুক্ল-দন্ত, বীর্যবান হও ভগবান, ১
সুজাত নরের যাহা হয় মহত্ত্বের নিদর্শন,
তব দেহে সে সকল আছে মহাপুরুষ-লক্ষণ। ২
উজ্জ্বল বদন, নির্মল নয়ন, ঋজুদেহ, অতি তেজবান,
শ্রমণসংঘের মাঝে বিরোচন, হও তুমি আদিত্য-সমান। ৩
কাঞ্চন-সন্নিভ চর্ম, ওহে ভিক্ষু, কল্যাণ-দর্শন,
এমন উত্তম দেহে, শ্রমণত্বে কীবা প্রয়োজন? ৪
রথী-শ্রেষ্ঠ চক্রবর্তী রাজা হওয়ার যোগ্যতর;
দিগ্বিজয়ী বীর হও তুমি জম্বুদ্বীপ-অধীশ্বর। ৫
ক্ষত্রিয় রাজারা তব অনুরক্ত হবে আজ্ঞাধীন,
সার্বভৌম মানবেন্দ্ররূপে রাজ্য শাস হে স্বাধীন!” ৬
“(শৈল,) রাজা আমি অনুত্তর, নিখিল বিশ্বের অধীশ্বর,
‘ধর্মত চালাই চক্র’, প্রতিদ্বন্দী নাই অন্যতর।” ৭
“অনুত্তর ধর্মরাজ বুদ্ধ বলে করিছ জ্ঞাপন,
‘ধর্মত চালাই চক্র’, কহিতেছ ইহা, ভগবান? ৮
শাস্তার শ্রাবকে প্রভু, কোনো সেনাপতি দান্তজন,
তব প্রবর্তিত ধর্মচক্র করিবেন প্রবর্তন?” ৯
“মম প্রবর্তিত চক্র, ওহে শৈল, ধর্মচক্র অনুত্তর,
তথাগত অনুজাত সারিপুত্র প্রবর্তিবে অনন্তর। ১০
অববোধ্য দুঃখসত্য, বিদ্যা আর বিমুক্তি উত্তম,
প্রহাতব্য সমুদয়, তাহা আমি করেছি বর্জন।
নিরোধ প্রত্যক্ষযোগ্য, করিয়াছি প্রত্যক্ষ এখন,
ভাবনীয় মার্গসত্য, মম চিত্তে করেছি ভাবন;
বুঝি আর্যসত্য আমি, তাই বুদ্ধ জানিবে ব্রাহ্মণ। ১১
ছাড় কঙ্খা, রাখ শ্রদ্ধা, আমার বিষয়ে, হে ব্রাহ্মণ!
অতীব দুর্লভ লোকে নিরন্তর বুদ্ধ-দরশন। ১২
প্রাদুর্ভাব যাঁহাদের জগতে দুর্লভ নিরন্তর,
হে ব্রাহ্মণ, সে সম্বুদ্ধ আমি শল্য-কর্তা অনুত্তর। ১৩
ব্রহ্মভূত অনুপম মারসৈন্য করেছি মর্দন,
সর্বরিপু পরিহরি ভয়শূন্য মোদিত জীবন।” ১৪
“কোনো, ওহে শিষ্যগণ, চক্ষুষ্মান করেন ভাষণ,
শল্যকর্তা মহাবীর বলে যথা কেশরী-গর্জন। ১৫
ব্রহ্মভূত নিরুপম মারসৈন্য করেছেন জয়,
নীচকুলে জাত সে, যে দেখে তাঁকে প্রসন্ন না হয়। ১৬
যার ইচ্ছা অনুসর, অনিচ্ছুক করহ প্রস্থান,
লভিব প্রব্রজ্যা আমি জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ বুদ্ধ-সন্নিধান। ১৭
ত্রিশত ব্রাহ্মণ এরা, যুক্তাঞ্জলি করিছে যাচন,
ব্রহ্মচর্য আচরিব তব কাছে, ওহে ভগবান!” ১৮
“সুব্যাখ্যাত ব্রহ্মচর্য, এসো, শৈল, করো আচরণ,
স্ব-জ্ঞানে প্রত্যক্ষ-যোগ্য, কালাপেক্ষা নহে কদাচন;
সংযম সাধনা জ্ঞানে, শিক্ষাব্রতী প্রমাদ নিধন,
প্রব্রজ্যা অব্যর্থ হয়, ব্রহ্মচর্যে সার্থক জীবন।” ১৯
পরিষদসহ শৈলব্রাহ্মণ ভগবৎ-সমীপে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা লাভ করিলেন।
৪০০. তখন কেণিয় জটিল সেই রাত্রি অতিবাহিত হইলে স্বীয় আশ্রমে উৎকৃষ্ট খাদ্য-ভোজ্য প্রস্তুত করিয়া ভগবানকে কাল নিবেদন করিলেন, “ভো গৌতম সময় হইয়াছে, ভোজন প্রস্তুত।” তখন ভগবান পূর্বাহ্ণ সময়ে নিবাসন পরিধান করিয়া পাত্র-চীবর ধারণপূর্বক কেণিয় জটিলের আশ্রমে উপনীত হইলেন এবং ভিক্ষুসংঘসহ সজ্জিত আসনে উপবেশন করিলেন। কেণিয় জটিল স্বহস্তে, বুদ্ধপ্রমুখ ভিক্ষুসংঘকে উৎকৃষ্ট খাদ্য-ভোজ্য দ্বারা সন্তর্পিত (পরিতৃপ্ত) করিলেন; সংপ্রবারিত করিলেন। ভগবান ভোজন শেষ করিয়া পাত্র হইতে হস্ত অপসারণ করিলে কেণিয় জটিল এক নিচ আসন লইয়া একপ্রান্তে বসিলেন, একপ্রান্তে উপবিষ্ট কেণিয় জটিলকে ভগবান এই গাথা দ্বারা অনুমোদন করিলেন :
“অগ্নি-হোত্র, যজ্ঞে মুখ্য, সাবিত্রী-ছন্দের প্রধান,
মানবের শ্রেষ্ঠরাজা, নদীমাঝে সমুদ্র মহান।
নক্ষত্রের মুখ্য-চন্দ্র, তাপীদের আদিত্য প্রধান,
পুণ্যকামী দাতৃদের, দক্ষিণার্হ সঙ্ঘই মহান।”
ভগবান কেণিয় জটিলকে এই গাথা দ্বারা অনুমোদন করিয়া আসন হইতে উঠিয়া প্রস্থান করিলেন।
তখন আয়ুষ্মান শৈল পরিষদসহ নির্জনে প্রমাদ রহিত, উদ্যোগযুক্ত সমর্পিত (তন্ময়) চিত্তে অবস্থান করিয়া অচিরে যার জন্য কুলপুত্রগণ আগার হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত হয়, সেই অত্যুত্তম ব্রহ্মচর্যের অবসান (নির্বাণ) ইহজীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিয়া, উপলব্ধি করিয়া বিহার করিতে লাগিলেন। তাঁহার জন্ম ক্ষয় হইল, ব্রহ্মচর্যবাস পূর্ণ হইল, করণীয় কৃত হইল, আর এই জীবনের জন্য কিছু করিবার নাই, ইহা তিনি অবগত হইলেন। সপরিষদ আয়ুষ্মান শৈল অর্হৎদের অন্যতম হইলেন।
অতঃপর আয়ুষ্মান শৈল শাস্তার সমীপে গিয়া চীবর একাংশে (বামস্কন্ধে) রাখিয়া যেদিকে ভগবান আছেন সেদিকে যুক্তাঞ্জলি হইয়া ভগবানকে গাথা দ্বারা বলিলেন :
আট দিন গত মাত্র, চক্ষুষ্মান, আসিনু তব শরণে,
সপ্তরাতে ভগবান, আমা সবে দমিলে তব শাসনে। ১
বুদ্ধ তুমি, শাস্তা তুমি, তুমি মুনি মার পরাভবকারী,
ছেদিয়া অনুশয়ে তীর্ণ তুমি, জীবের হও ত্রাণকারী। ২
উপধি তব অতিক্রান্ত, সর্ব আসব তব প্রদলিত,
সিংহসম, প্রনষ্ট ভয়-ভৈরব, উপাদান বিরহিত। ৩
এই ত্রিশত ভিক্ষু হেথায় রহিয়াছে অঞ্জলি করণে,
প্রসার পাদদ্বয় বীর, নাগেরা বন্দে শাস্তার চরণে।” ৪
শৈল সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [১]
English