দীর্ঘ উপদেশাবলী

DN26. চক্রবর্তী-সিংহনাদ সূত্রান্ত

চক্রবর্তী-সিংহনাদ সূত্রান্ত

৮০. আমি এইরূপ শ্রবণ করিয়াছি। একসময় ভগবান মগধদেশে মাতুলা নামক স্থানে অবস্থান করিতেছিলেন। ওই স্থানে ভগবান “ভিক্ষুগণ,” বলিয়া ভিক্ষুদিগকে সম্বোধন করিলেন। ভিক্ষুগণ প্রত্যুত্তরে বলিলেন, “দেব!”, ভগবান বলিলেন, “ভিক্ষুগণ, আত্ম-দ্বীপ, আত্ম-শরণ, অনন্যশরণ হইয়া বিহার করো, ধর্ম-দ্বীপ, ধর্ম-শরণ, অনন্যশরণ হইয়া বিহার করো।

“ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু আত্ম-দ্বীপ, আত্ম-শরণ, অনন্যশরণ হইয়া বিহার করেন? ধর্ম-দ্বীপ, ধর্ম-শরণ, অনন্যশরণ হইয়া বিহার করেন?

ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু জগতে অভিধ্যা-দৌর্মনস্য পরিহার করিয়া কায়ে কায়ানুদর্শী হইয়া, বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞাত ও স্মৃতিমান হইয়া অবস্থান করেন। বেদনায় বেদনানুদর্শী হইয়া, বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞাত ও স্মৃতিমান হইয়া অবস্থান করেন। চিত্তে চিত্তানুদর্শী হইয়া, বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞাত ও স্মৃতিমান হইয়া অবস্থান করেন। ধর্মে ধর্মানুদর্শী হইয়া, বীর্যবান, সম্প্রজ্ঞাত ও স্মৃতিমান হইয়া অবস্থান করেন। ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু এইরূপে আত্ম-দ্বীপ, আত্ম-শরণ, অনন্যশরণ হইয়া বিহার করেন, ধর্ম-দ্বীপ, ধর্ম-শরণ, অনন্যশরণ হইয়া বিহার করেন।

“ভিক্ষুগণ, স্বকীয় পৈতৃক গোচরভূমিতে বিচরণ করো । ভিক্ষুগণ, স্বকীয় পৈতৃক গোচর ভূমিতে বিচরণ করিলে মার সুযোগ পাইবে না, অবলম্বন পাইবে না। ভিক্ষুগণ, কুশলধর্ম গ্রহণ হেতু এই প্রকার পুণ্য বর্ধিত হয়।”

৮১. ভিক্ষুগণ, পূর্বকালে দৃঢ়নেমি নামে চক্রবর্তী, ধার্মিক, ধর্মরাজ, চতুরন্তবিজেতা, জনপদের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত, সপ্তরত্নসমন্বিত রাজা ছিলেন। তাঁহার এই সকল সপ্তরত্ন ছিল; যথা : চক্ররত্ন, হস্তীরত্ন, অশ্বরত্ন, মণিরত্ন, স্ত্রীরত্ন, গৃহপতি-রত্ন, পরিণায়ক-রত্ন। তাঁহার সহস্রাধিক পুত্র ছিল-সাহসী, বীরোপম, শত্রুসেনামর্দন। তিনি সসাগরা পৃথিবী বিনাদণ্ডে ও বিনাঅস্ত্রে মাত্র ধর্মের দ্বারা জয় করিয়া বাস করিতেন।

৮২. ভিক্ষুগণ, সেই রাজা দৃঢ়নেমি, বহুবৎসর, বহুশত বৎসর, বহুসহস্র বৎসর অতীত হইলে জনৈক পুরুষকে সম্বোধন করিলেন, “হে পুরুষ, যখন তুমি দেখিবে দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থানচ্যুত হইয়াছে, তখন উহা আমার গোচরে আনিবে।”

“ভিক্ষুগণ, তখন সেই পুরুষ প্রত্যুত্তরে বলিল, দেব, তথাস্তু।”

“ভিক্ষুগণ, সেই পুরুষ বহুবৎসর, বহুশত বৎসর, বহুসহস্র বৎসর অতীত হইলে দেখিল দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থানচ্যুত হইয়াছে। উহা দেখিয়া রাজা দৃঢ়নেমির নিকট গমন পূর্বক তাঁহাকে বলিল, “দেব, জানেন কি আপনার দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থানচ্যুত হইয়াছে?”

তখন, ভিক্ষুগণ, রাজা দৃঢ়নেমি জ্যেষ্ঠ রাজকুমারকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, “বৎস কুমার, আমার দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থানচ্যুত হইয়াছে। আমি শুনিয়াছি, “যে রাজচক্রবর্তীর দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হয়, স্থানচ্যুত হয়, তিনি অধিক দিন জীবন ধারণ করেন না। সর্বপ্রকার পার্থিব সুখ আমি ভোগ করিয়া লইয়াছি, এখন দিব্যসুখ অন্বেষণ করিবার সময় হইয়াছে। এসো, বৎস, এই আসমুদ্র পৃথিবীর ভার গ্রহণ করো। আমি কেশশ্মশ্রূ মোচন করিয়া কাষায় বস্ত্র পরিধানপূর্বক গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া গৃহহীন প্রব্রজ্যা আশ্রয় করিব।”

৮৩. অনন্তর, ভিক্ষুগণ, রাজা দৃঢ়নেমি জ্যেষ্ঠ পুত্রকে রাজ্যশাসন সম্বন্ধে উত্তমরূপে উপদেশ দিয়া কেশশ্মশ্রূ মোচন করিয়া কাষায় বস্ত্র পরিধানপূর্বক গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া প্রব্রজ্যা আশ্রয় করিলেন। ভিক্ষুগণ, রাজর্ষির প্রব্রজ্যা গ্রহণের সপ্ত দিবস অন্তে দিব্য চক্ররত্ন অন্তর্হিত হইল।

তখন জনৈক পুরুষ মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয়ের নিকট গমনপূর্বক তাঁহাকে বলিল, “দেব, জানেন কি দিব্য চক্ররত্ন অন্তর্হিত হইয়াছে?”

ভিক্ষুগণ, তখন সেই মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয় দিব্য চক্ররত্নের অন্তর্ধানের নিমিত্ত নিরানন্দ হইলেন, বিষাদ অনুভব করিলেন। তিনি রাজর্ষির নিকট গমনপূর্বক তাঁহাকে বলিলেন, “দেব, জানেন কি দিব্য চক্ররত্ন অন্তর্হিত হইয়াছে?”

এইরূপ উক্ত হইলে, ভিক্ষুগণ, রাজর্ষি মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয়কে বলিলেন, “বৎস, দিব্য চক্ররত্নের অন্তর্ধানের নিমিত্ত তুমি নিরানন্দ হইও না, বিষণ্ণ হইও না। বৎস, দিব্য চক্ররত্ন তোমার পৈতৃক দায়াদ্য নহে। বৎস, তুমি আর্যচক্রবর্তী-ব্রতে অবস্থান করো। ইহা সম্ভব যে, আর্য চক্রবর্তী-ব্রতে স্থিত হইয়া পঞ্চদশীর উপোসথ দিবসে স্নাতশীর্ষ ও উপোসথ পালনে রত হইয়া তুমি যখন প্রাসাদোপরি অবস্থান করিবে, তখন সহস্র অর, নেমি ও নাভিসমন্বিত সর্বাকার-পরিপূর্ণ দিব্য চক্ররত্নের আবির্ভাব হইবে।”

৮৪. “দেব, এই চক্রবর্তীর-ব্রত কী?

“বৎস, উহা এই যে, তুমি ধর্ম আশ্রয় করিয়া, ধর্মের সৎকার সম্মান, পূজা করিয়া, ধর্মে শ্রদ্ধাবান হইয়া, ধর্মধ্বজ, ধর্মকেতু, ধর্মবশবর্তী হইয়া স্বজনবর্গের, সেনাবাহিনীর, ক্ষত্রিয়গণের, সামন্তরাজগণের ব্রাহ্মণগৃহপতিগণের, গ্রাম-জনপদসমূহের, শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, মৃগ-পক্ষীদিগের ধর্মানুরূপ রক্ষাবরণগুপ্তির বিধান করো। তোমার রাজ্যে, বৎস, যেন অধর্ম কৃত না হয়। তোমার রাজ্যে যাহারা ধনহীন, তাহাদিগকে ধন দান করিবে। বৎস, তোমার রাজ্যে যে-সকল শ্রমণ-ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা মদ-প্রমাদ বিরহিত, ক্ষান্তি ও সংযমে নিবিষ্ট, কেবল আত্মদমন, আত্মশরণ ও আত্মনির্বাপণে রত তাঁহাদের নিকট সময়ে সময়ে গমন করিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, “ভন্তে, কুশল কী? অকুশলই বা কী? কী নিন্দনীয়, কী অনিন্দ্য? কী সেবনীয়, কী অসেবনীয়? কী করিলে ভবিষ্যতে আমার অমঙ্গল ও দুঃখের কারণ হইবে? কী করিলে ভবিষ্যতে আমার মঙ্গল ও সুখের কারণ হইবে?” তাঁহাদের কথা শুনিয়া যাহা অকুশল তাহা বর্জন করিবে, যাহা কুশল তাহা গ্রহণ করিয়া তাহাতে স্থিত হইবে। বৎস, ইহাই সেই আর্যচক্রবর্তী-ব্রত।”

“দেব, তথাস্তু” বলিয়া মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয় রাজর্ষিকে সম্মতি জ্ঞাপন করিয়া আর্য চক্রবর্তী-ব্রতে ব্রতী হইলেন। ওই ব্রতে ব্রতী হইয়া যখন তিনি পঞ্চদশীর উপোসথ দিবসে স্নাতশীর্ষ ও উপোসথ পালনেরত হইয়া প্রাসাদোপরি অবস্থান করিতেছিলেন, তখন সহস্র অর, নেমি ও নাভিসমন্বিত সর্বাকার-পরিপূর্ণ দিব্য-চক্ররত্নের আবির্ভাব হইল। উহা দেখিয়া রাজা চিন্তা করিলেন, “আমি এইরূপ শুনিয়াছি, “মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয় যখন পঞ্চদশীর উপোসথ দিবসে স্নাতশীর্ষ ও উপোসথ পালনেরত হইয়া প্রাসাদোপরি অবস্থান করেন, তখন যদি সহস্র অর, নেমি ও নাভিসমন্বিত সর্বাকার পরিপূর্ণ দিব্য চক্ররত্নের আবির্ভাব হয়, তাহা হইলে সেই রাজা চক্রবর্তী হন।” “আমি চক্রবর্তী রাজা হইব।”

৮৫. “তখন, ভিক্ষুগণ, মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয় আসন হইতে উত্থান করিয়া এক স্কন্ধ উত্তরাসঙ্গ দ্বারা আবৃত করিয়া বাম হস্তে ভৃঙ্গার গ্রহণপূর্বক দক্ষিণ হস্তে চক্ররত্নের উপর জলসেচন করিতে করিতে বলিলেন, “হে চক্ররত্ন, প্রবৃত্ত হও, জয়লাভ করো।” তখন, ভিক্ষুগণ, চক্ররত্ন পূর্বদিকে অগ্রসর হইল, চতুরঙ্গিনী সেনা-সহ রাজা চক্রবর্তী পশ্চাদনুসরণ করিতে লাগিলেন। যে যে স্থানে চক্ররত্ন প্রতিষ্ঠিত হইল, সেই সেই স্থানে রাজা চক্রবর্তী চতুরঙ্গিনী সেনা-সহ বাসস্থান গ্রহণ করিলেন। পূর্ব সীমান্তের প্রতিযোগী রাজগণ রাজা চক্রবর্তীর নিকট আগমন করিয়া বলিলেন, “মহারাজ, আগমন করুন, স্বাগত! সমস্তই আপনার, আপনি শাসন করুন।”

রাজা চক্রবর্তী বলিলেন, “প্রাণনাশ করিও না। অদত্তের গ্রহণ করিও না। ব্যভিচার করিও না। মিথ্যা কহিও না। মদ্যপান করিও না। পরিমিতভোজী হইবে।

ভিক্ষুগণ, পূর্বসীমান্তের প্রতিরাজগণ রাজা চক্রবর্তীর বশ্যতা স্বীকার করিলেন।

৮৬-৮৭. অনন্তর, ভিক্ষুগণ, সেই চক্ররত্ন পূর্ব সমুদ্রে প্রবেশ-পূর্বক পুনরায় উহা হইতে বহির্গত হইয়া দক্ষিণাভিমুখে অগ্রসর হইল,… দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিরাজাগণ রাজার বশ্যতা স্বীকার করিলেন। তদন্তর সেই চক্ররত্ন দক্ষিণ সমুদ্রে প্রবেশপূর্বক পুনরায় উহা হইতে বহির্গত হইয়া পশ্চিমাভিমুখে অগ্রসর হইল,… পশ্চিম সীমান্তের প্রতিরাজাগণ রাজার বশ্যতা স্বীকার করিলেন। এইরূপে, ভিক্ষুগণ, চক্ররত্ন পশ্চিম সমুদ্রে প্রবেশপূর্বক পুনরায় উহা হইতে বহির্গত হইয়া উত্তরভিমুখে অগ্রসর হইল,… উত্তর সীমান্তের প্রতিরাজাগণ রাজার বশ্যতা স্বীকার করিলেন।

অতঃপর, ভিক্ষুগণ, চক্ররত্ন সমুদ্র পর্যন্ত পৃথিবী জয় করিয়া রাজধানীতে প্রত্যাগমনপূর্বক রাজচক্রবর্তীর অন্তঃপুরদ্বারে ন্যায়াধিকরণের সম্মুখে রাজচক্রবর্তীর অন্তঃপুর শোভান্বিত করিয়া অক্ষাহতের ন্যায় স্থিত হইল।

৮৮. ভিক্ষুগণ, সেইরূপে দ্বিতীয় রাজা চক্রবর্তী… তৃতীয়… চতুর্থ… পঞ্চম… ষষ্ঠ… সপ্তম বহুবৎসর, বহুশত বৎসর, বহুসহস্র বৎসর অতীত হইলে জনৈক পুরুষকে সম্বোধন করিলেন, “হে পুরুষ, যখন তুমি দেখিবে দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থান চ্যুত হইয়াছে, তখন উহা আমার গোচরে আনিবে।” “ভিক্ষুগণ, তখন সেই পুরুষ প্রত্যুত্তরে বলিল, “দেব, তথাস্তু।”

“ভিক্ষুগণ, সেই পুরুষ বহুবৎসর, বহুশত বৎসর, বহুসহস্র বৎসর অতীত হইলে দেখিল দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থানচ্যুত হইয়াছে। উহা দেখিয়া রাজা চক্রবর্তীর নিকট গমনপূর্বক তাঁহাকে বলিল, “দেব, জানেন কি আপনার দিব্য চক্ররত্ন পশ্চাদ্বর্তী হইয়াছে, স্থানচ্যুত হইয়াছে?”

৮৯. তখন, ভিক্ষুগণ, রাজা চক্রবর্তী জ্যেষ্ঠ রাজকুমারকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, “বৎস কুমার… প্রব্রজ্যা আশ্রয় করিব।” (উপরে অনুচ্ছেদ নং ৮২ দ্রষ্টব্য।)

অনন্তর, ভিক্ষুগণ, রাজা চক্রবর্তী জ্যেষ্ঠ পুত্রকে রাজ্যশাসন সম্বন্ধে উত্তমরূপে উপদেশ দিয়া কেশশ্মশ্রূ মোচন করিয়া কাষায় বস্ত্র পরিধানপূর্বক গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া প্রব্রজ্যা আশ্রয় করিলেন। ভিক্ষুগণ, রাজর্ষির প্রব্রজ্যা গ্রহণের সপ্ত দিবস অন্তে দিব্য চক্ররত্ন অন্তর্হিত হইল।

৯০. তখন, ভিক্ষুগণ, জনৈক পুরুষ মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয়ের নিকট গমন-পূর্বক তাঁহাকে বলিল, “দেব, জানেন কি দিব্য চক্ররত্ন অন্তর্হিত হইয়াছে?”

ভিক্ষুগণ, উহা শুনিয়া রাজা নিরানন্দ হইলেন, বিষাদ অনুভব করিলেন, কিন্তু তিনি রাজর্ষির নিকট গমন করিয়া আর্য চক্রবর্তী-ব্রতের বিষয় জিজ্ঞাসা করিলেন না। তিনি স্বমতের বশবর্তী হইয়া জনপদ শাসন করিতে লাগিলেন। ওই প্রকার শাসনের জন্য প্রজাগণ পূর্বে আর্য চক্রবর্তী-ব্রত পালনকারী রাজগণের সময়ে যেইরূপ সমৃদ্ধিলাভ করিয়াছিল, সেইরূপ সমৃদ্ধি লাভ করিল না।

তখন, ভিক্ষুগণ, অমাত্য ও পারিষদবর্গ, গণক-মহামাত্রগণ, প্রহরী ও দৌবারিকগণ, মন্ত্রজীবীগণ একত্রিত হইয়া মূর্ধাভিষিক্ত রাজা ক্ষত্রিয়ের নিকট গমনপূর্বক বলিল, “দেব, আপনি স্বমতের বশবর্তী হইয়া জনপদ শাসন করিবার নিমিত্ত প্রজাগণ পূর্বে আর্য চক্রবর্তী-ব্রত পালনকারী রাজগণের সময়ে যেইরূপ সমৃদ্ধিলাভ করিয়াছিল, সেইরূপ সমৃদ্ধিলাভ করিতেছে না। দেব, আপনার রাজ্যে অমাত্য-পারিষদবর্গ, গণক-মহামাত্রগণ, প্রহরী ও দৌবারিকগণ, মন্ত্রজীবীগণ বিদ্যমান আছে, তাঁহারা এবং অপরে আর্য চক্রবর্তী-ব্রত অবগত আছে, আপনি আমাদিগকে আর্য চক্রবর্তী-ব্রত সম্বন্ধে প্রশ্ন করুন, আমরা উহা বিবৃত করিব।”

৯১. তখন, ভিক্ষুগণ, রাজা অমাত্য ইত্যাদি সকলকে একত্রিত করিয়া তাঁহাদিগকে আর্য চক্রবর্তী-ব্রত সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। ওইরূপে জিজ্ঞাসিত হইয়া তাঁহারা আর্য চক্রবর্তী প্রশ্ন রাজার নিকট বিবৃত করিলেন। উহা শুনিয়া রাজা ধর্মানুমোদিত রক্ষাবরণগুপ্তির বিধান করিলেন, কিন্তু ধনহীনকে ধনদান করিলেন না, উহার ফলে বিপুল দারিদ্র্যের আবির্ভাব হইল। দারিদ্র্যের বিস্তৃতির নিমিত্ত জনৈক পুরুষ পরের দ্রব্য যাহা অদত্ত তাহা গ্রহণ করিল, যাহা চৌর্য কথিত হয় তাহাই করিল। তাহাকে ধৃত করিয়া রাজার নিকট উপস্থিত করা হইল, “দেব, এই পুরুষ পরের দ্রব্য, যাহা অদত্ত তাহা গ্রহণ করিয়াছে, যাহা চৌর্যকথিত হয় তাহাই করিয়াছে।”

এইরূপে উক্ত হইলে, ভিক্ষুগণ, রাজা সেই পুরুষকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “হে পুরুষ, তুমি কি সত্যই পরের দ্রব্য, যাহা অদত্ত তাহা গ্রহণ করিয়াছ, যাহা চৌর্য কথিত হয় তাহাই করিয়াছ?”

“দেব, ইহা সত্য।

“কী কারণে?”

“দেব, আমার জীবনোপায় নাই।”

তখন, ভিক্ষুগণ, রাজা সেই পুরুষকে ধনদান করিলেন, “হে পুরুষ, এই ধনের দ্বারা আপনার জীবিকা-নির্বাহ করো, মাতাপিতার পোষণ করো, স্ত্রী পুত্রের পোষণ করো, ইহা কর্মান্তে প্রয়োগ করো, শ্রমণ-ব্রাহ্মণগণের নিমিত্ত আধ্যাত্মিক মঙ্গলপ্রদ দক্ষিণার প্রতিষ্ঠা করো, যাহা সৌভাগ্য ও সুখাবহ হইবে, স্বর্গসংবর্তনিক হইবে।”

ভিক্ষুগণ, সেই পুরুষ “দেব, “তথাস্তু” বলিয়া রাজার নিকট প্রতিশ্রুতি দান করিল।

ভিক্ষুগণ, অপর একব্যক্তিও পূর্বোক্তরূপে চৌর্যাপরাধে ধৃত হইয়া রাজসম্মুখে আনীত হইলে রাজা তাহাকে পূর্বের ন্যায় প্রশ্ন করিয়া ও ধনদান করিয়া পূর্বোক্তরূপ উপদেশ দিলেন।

৯২. ভিক্ষুগণ, প্রজাগণ শুনিল, “যাহারা পরদ্রব্য, যাহা অদত্ত তাহা গ্রহণ করে, যাহা চৌর্য কথিত হয়, তাহাই করে, রাজা তাহাদিগকে ধনদান করিতেছেন।” ইহা শুনিয়া তাহারা চিন্তা করিল, “আমরাও অদত্তের গ্রহণপূর্বক যাহা চৌর্য কথিত হয় তাহাই করিব।”

অনন্তর, ভিক্ষুগণ, জনৈক পুরুষ তাহাই করিয়া ধৃত হইয়া রাজসমীপে আনীত হইলে রাজা কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হইয়া অপরাধ স্বীকার করিল এবং বলিল, জীবনোপায়ের অভাবে সে ওই কর্ম করিয়াছে।

ভিক্ষুগণ, তখন রাজা চিন্তা করিলেন, “যাহারা পরের দ্রব্য অপহরণ করিবে, আমি যদি তাহাদিগকে ধনদান করি, তাহা হইলে এই চৌর্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে। অতএব এই পুরুষের প্রতি আমি আদর্শ দণ্ডের বিধান করিব, উহার মূলোচ্ছেদ করিব, উহার শিরশ্ছেদ করিব।”

অতঃপর, ভিক্ষুগণ রাজা কর্মচারীগণকে আদেশ দিলেন, “এই পুরুষের বাহুদ্বয় পশ্চাদ্দিকে কঠিন রজ্জুর দ্বারা দৃঢ়রূপে বদ্ধ করিয়া উহার মস্তক মুণ্ডনপূর্বক খরনিনাদী প্রণবের সহিত উহাকে রথ্যা হইতে রথ্যান্তরে, শৃঙ্গাটক হইতে শৃঙ্গাটকান্তরে ভ্রমণ করাইয়া দক্ষিণ দ্বার দিয়া নিষ্ক্রান্ত হইয়া, নগরের দক্ষিণদিকে উহার প্রতি আদর্শ দণ্ডের প্রয়োগ করো, উহার মূলোচ্ছেদ করো, উহার শিরশ্ছেদ করো।”

হে ভিক্ষুগণ, “তথাস্তু” বলিয়া কর্মচারীগণ রাজাদেশ পালন করিল।

৯৩. ভিক্ষুগণ, প্রজাগণ শ্রবণ করিল যে যাহারা পরস্বাপহরণ করে রাজা তাহাদের প্রতি আদর্শ দণ্ডের বিধান করিয়া তাহাদের শিরশ্ছেদ করিতেছেন। উহা শুনিয়া তাহারা চিন্তা করিল, “আমরাও তীক্ষ্ণ শস্ত্রাদি নির্মাণ করাইয়া যাহাদের দ্রব্য অপহরণ করিব তাহাদের প্রতি কঠিনতম দণ্ডের প্রয়োগ করিব, তাহাদের মূলোচ্ছেদ করিব, তাহাদের শিরশ্ছেদ করিব।”

তাহারা তীক্ষ্ণ শস্ত্রাদি নির্মাণ করাইয়া গ্রাম, নিগম ও নগর লুণ্ঠনে ব্যাপৃত হইল, দস্যুবৃত্তিতে রত হইল। তাহারা যাহাদের দ্রব্য অপহরণ করিল, শিরশ্ছেদন পূর্বক তাহাদের উচ্ছেদসাধন করিল।

৯৪. এইরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে ব্যাপকরূপে দারিদ্র্যের আবির্ভাব হইল, দারিদ্র্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইলে চৌর্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, চৌর্যের বৃদ্ধির সহিত প্রাণাতিপাত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, প্রাণাতিপাতের বৃদ্ধির সহিত মৃষাবাদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, মৃষাবাদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল, আয়ু ও বর্ণ হ্রাসপ্রাপ্ত হইলে অশীতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যের সন্তান সন্ততিগণ চত্বারিংশৎ সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন হইল।

ভিক্ষুগণ, চত্বারিংশৎ সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের মধ্যে একজন পুরুষ অদত্ত পরদ্রব্য গ্রহণপূর্বক চৌর্যাপরাধ করিল। ধৃত হইয়া সে রাজ সম্মুখে আনীত হইলে রাজা কর্তৃক অপরাধের সত্যতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হইয়া অপরাধ স্বীকার করিল না, স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলিল।

৯৫. এইরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে… চত্বারিংশৎ সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান সন্ততিগণ বিংশতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন হইল।

ভিক্ষুগণ, বিংশতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের মধ্যে একজন পুরুষ অদত্ত পরদ্রব্য গ্রহণপূর্বক চৌর্যাপরাধ করিল। অপর একজন পুরুষ ক্রুরতা প্রণোদিত হইয়া তাহার বিরুদ্ধে রাজার নিকট সংবাদ দিল।

৯৬. এইরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে ব্যাপকরূপে দারিদ্র্যের আবির্ভাব হইল, দারিদ্র্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইলে চৌর্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, চৌর্যের বৃদ্ধির সহিত প্রাণাতিপাত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, প্রাণাতিপাতের বৃদ্ধির সহিত মৃষাবাদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, মৃষাবাদ বৃদ্ধির সহিত ব্যাপকরূপে পৈশুন্যের আবির্ভাব হইল, উহার ফলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল এবং বিংশতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান সন্ততিগণ দশ সহস্র বৎসর আয়ুসম্পন্ন হইল।

ভিক্ষুগণ, দশ সহস্র বৎসর আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের কেহ কেহ সুরূপ এবং কেহ কেহ কুরূপ হইল, যাহারা কুরূপ হইল তাহারা সুরূপের প্রতি লুব্ধ হইয়া পরদার গমন করিল।

৯৭. এইরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে ব্যাপকরূপে দারিদ্র্যের আবির্ভাব হইল, উহার ফলে চৌর্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, চৌর্যের বৃদ্ধির সহিত প্রাণাতিপাত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, প্রাণাতিপাতের বৃদ্ধির সহিত মৃষাবাদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল, মৃষাবাদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইলে, পৈশুন্যের আবিভাব হইল, পৈশুন্যের বৃদ্ধির সহিত ব্যাপকরূপে ব্যভিচারের আবির্ভাব হইল, উহার ফলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইয়া দশ সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান সন্ততিগণ পাঁচণ্ডসহস্র বর্ষ আয়ুবিশিষ্ট হইল।

৯৮. ভিক্ষুগণ, শেষোক্ত মনুষ্যগণের মধ্যে ব্যাপকরূপে দুইটি অসদ্ধর্মের আবির্ভাব হইল, কর্কশ বাক্য এবং তুচ্ছ প্রলাপ। উহার ফলে ওই সকল মনুষ্যের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল। তখন পাঁচ সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্নগণের সন্তান সন্ততিগণ কেহ কেহ দ্বি-অর্ধ সহস্র বৎসর, কেহ কেহ দুই সহস্র বর্ষ আয়ুবিশিষ্ট হইল।

৯৯. ভিক্ষুগণ, দ্বি-অর্ধ সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্নের মধ্যে লোভ ও বিদ্বেষ ব্যাপকরূপে আবির্ভূত হইল। উহার ফলে তাহাদের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল। তদ্ধেতু তাহাদের সন্তান সন্ততিগণ এক সহস্র বৎসর আয়ুষ্ক হইল।

১০০. ভিক্ষুগণ, সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের মধ্যে মিথ্যাদৃষ্টি ব্যাপকরূপে আবির্ভূত হইল। উহার ফলে তাহাদের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল। তখন তাহাদের সন্তান সন্ততিগণ পাঁচশত বৎসর আয়ুষ্ক হইল।

১০১. ভিক্ষুগণ, শেষোক্ত মনুষ্যগণের মধ্যে ত্রিবিধ ধর্ম ব্যাপকরূপে আবির্ভূত হইল, অধর্ম-রাগ (অবৈধ যৌন সংসর্গ), বিষম-লোভ এবং মিথ্যা-ধর্ম (অসংযত লালসা)। উহার ফলে তাহাদের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল। তখন তাহাদের সন্তান সন্ততিগণ কেহ কেহ দ্বি-অর্ধশত বৎসর, কেহ কেহ দুইশত বৎসর আয়ুসম্পন্ন হইল।

ভিক্ষুগণ, দ্বি-অর্ধশত বৎসর আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের মধ্যে মাতাপিতার প্রতি ভক্তিহীনতা এবং শ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও কুলপ্রধানের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা ব্যাপকরূপে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল।

১০২. এইরূপে, ভিক্ষুগণ, ধনহীনকে ধনদানের অভাবে বিপুল দারিদ্র্যের আবির্ভাব হইল, উহার ফলে ব্যাপকভাবে চৌর্যের আবির্ভাব হইল, উহার ফলে অত্যাচারের প্রাবল্য হইল, উহার ফলে প্রাণনাশ চতুর্দিকে ব্যাপ্ত হইল, উহার ফলে মিথ্যা বাক্য, উহার ফলে পিশুনবাক্য, উহার ফলে ব্যভিচার, উহার ফলে কর্কশবাক্য ও তুচ্ছ প্রলাপ; উহার ফলে লোভ ও বিদ্বেষ, উহার ফলে মিথ্যাদৃষ্টি, উহার ফলে অধর্ম-রাগ, বিষম লোভ এবং মিথ্যা-ধর্ম, উহার ফলে মাতাপিতার প্রতি ভক্তিহীনতা এবং শ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও কুলপ্রধানের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা ব্যাপকরূপে আবির্ভূত হইল। ইহার ফলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ক্ষীণ হইল এবং দ্বি-অর্ধশত বর্ষ আয়ু সম্পন্নগণের সন্তান সন্ততিগণ শতবর্ষ আয়ুষ্ক হইল।

১০৩. ভিক্ষুগণ, এমন সময় আসিবে যখন এইসকল মনুষ্যগণের সন্তান সন্ততিগণ দশবর্ষ আয়ুসম্পন্ন হইবে। ভিক্ষুগণ, দশবৎসর আয়ুসম্পন্ন ওই সকল মনুষ্যের কুমারীগণ পাঁচবৎসর বয়সে বিবাহযোগ্য হইবে। ওই সকল মনুষ্যগণের মধ্যে ঘৃত, নবনীত, তৈল, মধু, ফাণিত এবং লবণ, এই সকল রসের স্বাদ লুপ্ত হইবে। কোরদূষক উহাদের শ্রেষ্ঠ ভোজন হইবে। যেইরূপ, ভিক্ষুগণ, এক্ষণে মাংস-মিশ্রিত শালিঅন্ন শ্রেষ্ঠ ভোজন, সেইরূপ কোরদূষক ওই সকল মনুষ্যের শ্রেষ্ঠ ভোজন হইবে। ওই সকল মনুষ্যগণের মধ্যে দশ কুশল-কর্মণ্ডপথ সম্পূর্ণরূপে অন্তর্হিত হইবে, দশ অকুশল-কর্মণ্ডপথ অতিশয় প্রবল হইবে। উহাদের মধ্যে “কুশল” নামক কোনো শব্দ থাকিবে না। কুশলের কারক কী প্রকারে থাকিবে? উহাদের মধ্যে যাহারা মাতাপিতার প্রতি ভক্তিহীন এবং শ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও কুলপ্রধানগণের প্রতি শ্রদ্ধাহীন হইবে, তাহারাই পূজ্য ও প্রশংসার্হ হইবে। যেইরূপ, ভিক্ষুগণ, এক্ষণে যাহারা মাতাপিতার প্রতি ভক্তিমান, এবং শ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও কুলপ্রধানগণের প্রতি শ্রদ্ধাবান তাহারাই পূজ্য ও প্রশংসার্হ হয়, সেইরূপই উহাদের মধ্যে যাহারা মাতাপিতার প্রতি ভক্তিহীন এবং শ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও কুলপ্রধানগণের প্রতি শ্রদ্ধাহীন তাহারাই পূজ্য ও প্রশংসার্হ হইবে।

ভিক্ষুগণ, ওই সকল মনুষ্যগণের মধ্যে মাতা, মাতৃষ্বসা, মাতুলানী, আচার্যভার্যা অথবা গুরুপত্নীর জ্ঞান থকিবে না; ছাগ-মেষ, কুক্কুট-শূকর, শৃগাল-কুক্কুরের ন্যায় সব একাকার হইয়া যাইবে। ভিক্ষুগণ, ওই সকল মনুষ্য পরস্পরের প্রতি তীব্র ক্রোধ, বিদ্বেষ, মন-প্রদোষ এবং হনন-চিত্ত পোষণ করিবে : মাতারও পুত্রের প্রতি, পুত্রেরও মাতার প্রতি, পিতার পুত্রের প্রতি, পুত্রের পিতার প্রতি, ভ্রাতার ভ্রাতার প্রতি, ভ্রাতার ভগিনীর প্রতি, ভগিনীর ভ্রাতার প্রতি উক্তরূপ মনোভাবের উৎপত্তি হইবে। মৃগ দেখিয়া মৃগয়াসক্তের মনে যেইরূপ ভাবের উদয় হয়, ওই সকল মনুষ্যও পরস্পরের প্রতি ওইরূপ ভাবাপন্ন হইবে।

১০৪. ভিক্ষুগণ, ওই সকল মনুষ্যের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী শস্ত্রান্তরকল্পের আবির্ভাব হইবে; তাহারা পরস্পরকে পশুর ন্যায় জ্ঞান করিবে; তাহাদের হস্তে তীক্ষ্ণ অস্ত্রের প্রাদুর্ভাব হইবে; তাহারা ওই অস্ত্রের দ্বারা “ইহা পশু” ইহা পশু”, বলিয়া পরস্পরের প্রাণ সংহার করিবে। ভিক্ষুগণ, ওই সকল প্রাণীগণের মধ্যে কাহারও কাহারও মনে এইরূপ হইবে : “আমরা কাহারও অনিষ্ট করিব না, অপরেও যেন আমাদের অনিষ্ট না করে; আমরা তৃণ অথবা বনগহনে, অথবা বৃক্ষ-গহনে, অথবা নদীবেষ্টিত দুর্গম স্থানে অথবা বিষম পর্বতে প্রবেশ করিয়া বনমূলফলাহারী হইয়া জীবন যাপন করিব।” তাহারা ওইরূপ স্থানসমূহে গমনপূর্বক ইচ্ছানুরূপ জীবন যাপন করিবে। তাহারা সপ্তাহ অতীত হইলে ওই সকল স্থান হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া পরস্পরকে আলিঙ্গনপূর্বক সভাক্ষেত্রে মিলিত হইয়া একে অপরকে আশ্বাস দিয়া গাহিবে, “কী আনন্দ, হে মনুষ্য, তুমি এখনো জীবিত!”

১০৫. ভিক্ষুগণ, তখন মনুষ্যগণ এইরূপ চিন্তা করিবে, “অকুশল কর্মে প্রবৃত্ত হইবার জন্য আমাদের ঘোর জ্ঞাতিক্ষয় হইয়াছে, অতএব আমরা কুশলকর্মে প্রবৃত্ত হইব। কী কুশলকর্ম করিব? আমরা প্রাণাতিপাত হইতে বিরত হইব, এই কুশলকর্মে আমরা স্থিত হইব।” তাহারা প্রাণাতিপাত হইতে বিরত হইবে, এই কুশল কর্মে স্থিত হইবে। কুশলধর্মে প্রবৃত্ত হইবার নিমিত্ত তাহাদের আয়ু ও বর্ণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে। এইরূপে দশবর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান সন্ততিগণ বিংশতি বর্ষ আয়ুসম্পন্ন হইবে।

তৎপরে, ভিক্ষুগণ, ওই সকল মনুষ্য চিন্তা করিবে, “কুশল কর্মে প্রবৃত্ত হইবার নিমিত্ত আমাদের আয়ু ও বর্ণ উভয়ই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে, অতএব আমরা অধিকমাত্রায় কুশলকর্ম করিব। আমরা অদত্তের গ্রহণ হইতে বিরত হইব, ব্যভিচার হইতে বিরত হইব, মৃষাবাদ হইতে বিরত হইব, পিশুন বাক্য হইতে বিরত হইব, কর্কশ বাক্য হইতে বিরত হইব, তুচ্ছ প্রলাপ হইতে বিরত হইব, লোভ পরিহার করিব, বিদ্বেষ পরিহার করিব, মিথ্যাদৃষ্টি পরিহার করিব, অধর্ম-রাগ বিষম-লোভ এবং মিথ্যা-ধর্মরূপ ত্রিবিধ ধর্ম পরিহার করিব; অতএব আমরা মাতৃ ও পিতৃভক্ত হইব, শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এবং কুলপ্রধানগণের প্রতি শ্রদ্ধাবান হইব, এই কুশল ধর্মে স্থিত হইব।”

তাহারা মাতৃ ও পিতৃভক্ত হইবে, শ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও কুলপ্রধানগণের প্রতি শ্রদ্ধাবান হইবে, এই কুশলধর্মে স্থিত হইবে। কুশলধর্মে প্রবৃত্ত হইবার নিমিত্ত তাহাদের আয়ু ও বর্ণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে। উহার ফলে বিংশতিবর্ষ আয়ুসম্পন্নগণের পুত্রগণ চত্বারিংশৎবর্ষ আয়ু প্রাপ্ত হইবে। চত্বারিংশৎ বৎসর আয়ুপ্রাপ্তগণের পুত্রগণ অশীতিবর্ষ আয়ুসম্পন্ন হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু একশত ষষ্টি বৎসর হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু তিনশত বিশবৎসর হইবে, তাহাদের পুত্রগণ ছয়শত চল্লিশ বর্ষ আয়ুসম্পন্ন হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু দুইসহস্র বৎসর হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু চারিসহস্র বৎসর হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু আট সহস্র বৎসর হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু বিংশতি সহস্র বৎসর হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু চল্লিশ সহস্র বৎসর হইবে; তাহাদের পুত্রগণের আয়ু অশীতি সহস্র বৎসর হইবে।

১০৬. ভিক্ষুগণ, অশীতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের কুমারীগণ পঞ্চশতবর্ষ বয়সে বিবাহযোগ্যা হইবে। ওই সকল মনুষ্যের মধ্যে ত্রিবিধ রোগের আবির্ভাব হইবে : ইচ্ছা, ক্ষুধা ও জরা। ওই সময় জম্বুদ্বীপ সমৃদ্ধ ও স্ফীত হইবে। গ্রাম, নগর ও রাজধানীসমূহ এত ঘনসন্নিবিষ্ট হইবে যে, কুক্কুটগণ একস্থান হইতে অন্যস্থানে উড়িয়া যাইতে পারিবে। জম্বুদ্বীপ নলবন এবং শরবনের ন্যায় নিরন্তর মনুষ্যাকীর্ণ হইয়া অবীচির ন্যায় প্রতীয়মান হইবে। ওই সময় বারাণসী কেতুমতী নামে রাজধানী হইবে, উহা সমৃদ্ধ, স্ফীত, জনবহুল, মনুষ্যাকীর্ণ এবং সুভিক্ষ হইবে। ওই সময় জম্বুদ্বীপে রাজধানী কেতুমতী প্রমুখ চুরাশি সহস্র নগর থাকিবে।

ভিক্ষুগণ, ওই সময়ে রাজধানী কেতুমতী নগরে শঙ্খ নামে রাজার আবির্ভাব হইবে, তিনি চক্রবর্তী, ধার্মিক, ধর্মরাজ, চতুরন্ত বিজেতা, জনপদের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত এবং সপ্তরত্নসমন্বিত হইবেন, তাঁহার এইসকল সপ্তরত্ন হইবে; যথা : চক্ররত্ন, হস্তীরত্ন, অশ্বরত্ন, মণিরত্ন, স্ত্রীরত্ন, গৃহপতিরত্ন, এবং পরিণায়ক রত্ন। তাঁহার সহস্রাধিক পুত্র হইবে, সকলেই সাহসী, বীরোপম, শত্রুসেনামর্দন; তিনি সসাগরা পৃথিবী বিনাদণ্ডে ও বিনাঅস্ত্রে, মাত্র ধর্মের দ্বারা, জয় করিয়া বাস করিবেন।

১০৭. ভিক্ষুগণ, ওই সময়ে জগতে মৈত্রেয় নামে অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর দম্য-পুরুষ-সারথি, দেবমনুষ্যের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবানের আবির্ভাব হইবে, যেইরূপ আমি এক্ষণে অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর দম্য-পুরুষ-সারথি, দেবমনুষ্যের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবানরূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হইয়াছি। তিনি ইহলোক, দেবলোক, মারলোক, ব্রহ্মলোক এবং শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ, দেব ও মনুষ্যগণকে সাক্ষাদ্দর্শনোদ্ভুত জ্ঞান দ্বারা স্বয়ং অবগত হইয়া উপদিষ্ট করিবেন, যেইরূপ আমি এক্ষণে ইহলোক দেবলোক, মারলোক, ব্রহ্মলোক এবং শ্রমণ ও ব্রাহ্মণ, দেব ও মনুষ্যগণকে সাক্ষাদ্দর্শনোদ্ভুত জ্ঞান দ্বারা স্বয়ং অবগত হইয়া উপদিষ্ট করিতেছি। তিনি যে ধর্মের প্রারম্ভ কল্যাণময়, মধ্যকল্যাণময়, অন্তকল্যাণময়, যাহা অর্থ ও শব্দসম্পদপূর্ণ, সর্বাঙ্গীন পূর্ণতাপ্রাপ্ত এবং যাহা বিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য্য সেই ধর্মের উপদেশ দান করিবেন, যেইরূপ আমি এক্ষণে করিতেছি। তিনি অনেক সহস্র ভিক্ষুসমন্বিত সংঘের তত্ত্বাবধায়ক হইবেন, যেইরূপ আমি এক্ষণে হইয়াছি।

১০৮. অতঃপর, ভিক্ষুগণ, রাজা শঙ্খ পূর্বে রাজা মহাপনাদ কর্তৃক নির্মিত প্রাসাদকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করিয়া উহাতে বাস করিবেন। পরে তিনি উহা শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দুর্গত পথচারী, দরিদ্র যাচকগণকে দান করিয়া অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ ভগবান মৈত্রেয়ের নিকট কেশশ্মশ্রূ মোচনপূর্বক কাষায় বস্ত্র পরিধান করিয়া গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া গৃহহীন প্রব্রজ্যা আশ্রয় করিবেন। এইরূপে প্রব্রজিত হইয়া তিনি নির্জনবাসী, অপ্রমত্ত, উৎসাহপূর্ণ, দৃঢ়-সংকল্প হইয়া অনতিবিলম্বে যথার্থ পথাবলম্বী কুলপুত্রগণ যে সম্পদ লাভের জন্য গৃহ পরিত্যাগ করিয়া গৃহহীন প্রব্রজ্যার আশ্রয় করেন, সেই অনুত্তর ব্রহ্মচর্য্য স্বয়ং জ্ঞাত হইয়া ও উপলব্ধি করিয়া এই জগতেই উহার পূর্ণতা সাধন করিবেন।

১০৯. ভিক্ষুগণ, আত্ম-দ্বীপ হইয়া আত্ম-শরণ হইয়া অনন্য-শরণ হইয়া বিহার কর; ধর্ম-দ্বীপ, ধর্ম-শরণ হইয়া অনন্য-শরণ হইয়া বিহার করো। কিন্তু কিরূপে ভিক্ষু আত্ম-দ্বীপ হইয়া আত্ম-শরণ হইয়া অনন্য-শরণ হইয়া, ধর্ম-দ্বীপ, ধর্ম-শরণ, অনন্য-শরণ হইয়া বিহার করেন? ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু জগতে অভিধ্যা-দৌর্মনস্য পরিহার করিয়া কায়ে কায়ানুদর্শী হইয়া, উদ্দীপিত, অবহিত ও স্মৃতিমান হইয়া বিহার করেন, বেদনায় বেদনানুদর্শী হইয়া, উদ্দীপিত, অবহিত ও স্মৃতিমান হইয়া বিহার করেন, চিত্তে চিত্তানুদর্শী হইয়া, উদ্দীপিত, অবহিত ও স্মৃতিমান হইয়া বিহার করেন, ধর্মে ধর্মানুদর্শী হইয়া উদ্দীপিত, অবহিত ও স্মৃতিমান হইয়া বিহার করেন। ভিক্ষুগণ, এইরূপেই ভিক্ষু আত্ম-দ্বীপ, আত্ম-শরণ, অনন্য-শরণ হইয়া, ধর্ম-দ্বীপ, ধর্ম-শরণ, অনন্য-শরণ হইয়া বিহার করেন।

১১০. ভিক্ষুগণ, স্বকীয় পৈতৃক বিষয়ে গোচরার্থ ভ্রমণ কর; ওইরূপ করিলে তোমাদের আয়ু ও বর্ণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে, তোমাদের সুখ, ভোগ ও বল বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইবে।

ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুর আয়ু কী? ভিক্ষু ছন্দ-সমাধি-প্রধান-সংস্কারসমন্বিত ঋদ্ধিপাদের ভাবনা করেন, বীর্যসমাধি প্রধান-সংস্কারসমন্বিত ঋদ্ধিপাদের ভাবনা করেন, চিত্ত-সমাধি প্রধান-সংস্কারসমন্বিত ঋদ্ধিপাদের ভাবনা করেন, মীমাংসা-সমাধি-প্রধান-সংস্কারসমন্বিত ঋদ্ধিপাদের ভাবনা করেন। তিনি এই চারি ঋদ্ধিপাদের অনুশীলন করিয়া এবং ওই সকলে অনুযুক্ত হইয়া ইচ্ছানুসারে কল্পকাল অথবা কল্পাবশেষকাল জীবিত থাকিতে পারেন। ভিক্ষুগণ, ইহাই ভিক্ষুর আয়ু।

ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুর বর্ণ কী? ভিক্ষু শীলবান হন, তিনি প্রাতিমোক্ষ নিয়মিত হইয়া, অনুমাত্র বর্জনীয়ে ভয়দর্শী হইয়া বিহার করেন, শিক্ষাপদসমূহ গ্রহণপূর্বক উহাতে শিক্ষিত হন। ইহাই ভিক্ষুর বর্ণ।

ভিক্ষুর সুখ কী? ভিক্ষু কাম হইতে বিবিক্ত হইয়া, অকুশলধর্ম হইতে বিবিক্ত হইয়া, সবিতর্ক সবিচার বিবেকজ প্রীতিসুখ-মণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন; বিতর্ক বিচারের উপশমে অধ্যাত্ম-সম্প্রসাদী, চিত্তের একীভাব আনয়নকারী অবিতর্ক অবিচার সমাধিজ প্রীতি-সুখমণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন; ভিক্ষু প্রীতিতে বিরাগী হইয়া উপেক্ষার ভাবে অবস্থান করেন, স্মৃতিমান ও সমপ্রজ্ঞাত হইয়া স্বচিত্তে (প্রীতি নিরপেক্ষ) সুখ অনুভব করেন, আর্যগণ যেই ধ্যানস্তরে আরোহণ করিলে “ধ্যায়ী উপেক্ষাসম্পন্ন ও স্মৃতিমান হইয়া (প্রীতি নিরপেক্ষ) সুখে বাস করেন” বলিয়া বর্ণনা করেন, সেই তৃতীয় ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন; ভিক্ষু সর্ব দৈহিক সুখ-দুঃখ পরিহার করত পূর্বেই সৌমনস্য-দৌর্মনস্য (মনের হর্ষ-বিষাদ) অস্তমিত করিয়া না দুঃখ না সুখ উপেক্ষা ও স্মৃতি পরিশুদ্ধ চিত্তে চতুর্থ ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। ভিক্ষুগণ, ইহাই ভিক্ষুর সুখ।

ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুর ভোগ কী? ভিক্ষু মৈত্রীসহগত চিত্তে এক, দুই, তিন এইরূপে চতুর্দিক পরিস্ফুরিত করিয়া বিহার করেন। তিনি ঊর্ধ্বে, অধোদিকে, তীর্যকদিকে সর্বত্র সর্বলোক মৈত্রীযুক্ত এবং বিপুল, মহান, অপ্রমেয়, বৈরহীন, দ্রোহহীন চিত্ত দ্বারা পরিস্ফুরিত করিয়া বিহার করেন। ভিক্ষুগণ, ইহাই ভিক্ষুর ভোগ।

ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুর বল কী? ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় হেতু অনাসব চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি এই জগতেই স্বয়ং জানিয়া ও সাক্ষাৎ করিয়া বিহার করেন। ভিক্ষুগণ, ইহাই ভিক্ষুর বল।

ভিক্ষুগণ, মারের বলের ন্যায় দুর্দমনীয় বল আমি দেখিতে পাই না, কিন্তু কুশল ধর্মের গ্রহণ হেতু এই পুণ্য বর্ধিত হয়।

ভগবান এইরূপ বলিলেন। আনন্দিত হইয়া ভিক্ষুগণ ভগবদ্বাক্যের অভিনন্দন করিলেন।

চক্রবর্তী-সিংহনাদ সূত্রান্ত সমাপ্ত।